শেষকথা

মডার্না কোভিড ভ্যাকসিনের পেটেন্ট নিয়েছিল করোনা আসার নয় মাস আগেই। আরটিপিসিআর টেস্টের পেটেন্ট নেওয়া হয়েছিল করোনা আসার পাঁচ বছর আগেই। ২০১৯ এর সেপটেম্বর অক্টোবর নাগাদ প্যানডেমিক আসলে কি কি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সেই বিষয়ে ইভেন্ট ২০১ এর আয়োজন করেছিল বিল গেটস। সেই ইভেন্টে সিআইয়ের আধিকারিকও যোগ দিয়েছিল। এই সবই এখন ওপেন সিক্রেট। আমরা ২০২০-এর এপ্রিল থেকে এই সব প্রশ্ন তুলে আসছি। বিশ্বের ২৫ টি দেশে মার্কিন সামরিক বাহিনীর অধীনে একাধিক কর্পোরেট সংস্থার সাথে গাঁটছড়া বেঁধে ৩০০’র মতোন বায়োল্যাবে জৈবঅস্ত্র তৈরীর গবেষণা ও উৎপাদন চলছে। কোভিড-১৯ সেই রকমই একটি জৈবঅস্ত্র। কিন্তু মারাত্মক নয়। উহান সহ বিশেষ কয়েকটি শহরে যা ছড়িয়ে দিয়ে করোনা-পালা শুরু করা হয়। বাকিটা সেই ইভেন্ট ২০১ এর নকশা মতো মিডিয়া আর কৃত্রিম পরিসংখ্যানের কারসাজিতে তৈরী করা ফেক প্যানডেমিক। কিন্তু কোভিড-১৯ ফেক ভাইরাস নয়। সেটি আমেরিকার ঐ ৩০০টি বায়োল্যাবের কোন একটিতে তৈরী। সামনের মাসে বিল গেটেসের নতুন বই বাজারে আসছে। পরবর্তী প্যানডেমিকের আগাম সতর্কবার্তা নিয়ে। এটা ঘটনা, কোভিড-১৯ আসলে ট্রেলার। সামনে আসল প্যানডেমিক আসতে চলেছে। বিল গেটেস এবং সহযোগীদের লক্ষ্য অন্তত ৩০% জনসংখ্যা কমানো। তার জন্যই আমরা গত দুই বছর ট্রেলার দেখলাম। এদিকে রাশিয়া বাদ সেধেছে। গেটস বাহিনী আসল প্যানডেমিক নিয়ে আসার আগেই ইউক্রেনের ৩০টি বায়োল্যাব বন্ধ করে দিতে সামরিক অভিযানে নেমে পড়েছে। এটা সফল না হলে গোটা বিশ্বই গেটস বাহিনীর শিকার হবে। কে থাকবে আর কে চলে যাবে। কেউ জানে না। ইউক্রেনে ন্যাটো নিউক্লিয়ার অস্ত্র বসাতো না। সেটা রাশিয়াও জানে। বসানোর সম্ভাবনা নিয়ে রাজনীতি চালিয়ে যেত। কিন্তু সেই সম্ভাবনাকেই অস্ত্র করে রাশিয়া ইউক্রেন অভিযানে নেমেছে আসলে ৩০টি বায়োল্যাবে গেটস বাহিনীর কার্যক্রমকে ভেস্তে দিতে। মূল যুদ্ধটা এইখানেই। সেটিকে ধামাচাপা দিতেই বিশ্বজুড়ে মানুষকে পুতিন দেখানো হচ্ছে। এই বায়োল্যাবগুলিই আগামী সময়ে মার্কিনশক্তির প্রাণভোমরা। একদিকে জৈবঅস্ত্র। আর এক দিকে ভ্যাকসিন বাণিজ্য। মার্কিনশক্তি জানে পারমাণবিক যুদ্ধে জেতা যাবে না। তাই জৈবঅস্ত্র দিয়ে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ জয়ের ব্যবস্থা করে রাখতে চাইছে। চীন ও রাশিয়া এই রাস্তাই বন্ধ করে দিতে চাইছে। জৈবঅস্ত্র দিয়ে রথ দেখা আর কলাবেচার ব্যবস্থা করে রাখাই মার্কিনদের লক্ষ্য। শত্রু নিধন। আর ভ্যাকসিন বাণিজ্য। তারপরেও কথা রয়েছে। এই ভ্যাকসিন দিয়ে প্রথমেই মানুষের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অবলুপ্ত করে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কারণ, সেটি হলে তবেই মোবাইলের সিম ভ্যালিডিটি সচল রাখার মতোন মানুষকে ইমিউনিটি কার্যকর করে রাখতে আজীবন নিয়মিত ভ্যাকসিন নিয়ে যেতে হবে। সকালে প্রেশারের অষুধ খাওয়ার মতোন আর কি। মাটির তলার তেল ফুরিয়ে আসবে। কিন্তু মানুষের ইমিউনিটি নিয়ে ব্যাবসা কোনদিন ফুরাবে না। সেটাই গেটস বাহিনীর আসল গেম-প্ল্যান। রাশিয়া ও চীন কি পারবে সেই ষড়যন্ত্র বানচাল করে দিতে? না’কি সেখানেও কর্পোরেট শক্তি গেটস বাহিনীর সাথে হাত মেলাবে? আমাদের ভাগ্য তার উপরেই নির্ভর করছে আপাতত।

১২ই এপ্রিল’ ২০২২

দেশপ্রেমের গাইডলাইন

আমরা দেশের সচেতন নাগরিক। ওজনদার কলেজি ডিগ্রী’র বোঝা মাথায় নিয়ে। তাই আমরা মিডিয়া নিয়ন্ত্রীত চিন্তা চেতনায়, ভাবনা সিদ্ধান্তে অংশ নিতেই স্বচ্ছন্দ। মিডিয়া আমাদেরকে বলে দিচ্ছে কোন বিষয়টি এই মুহুর্তে দেশের প্রধান সমস্যা। আমরা সেই সমস্যার পিছনে ছুটতে শুরু করে দিচ্ছি সাথে সাথেই। ফলে ছুটতে ছুটতেই আমরা চিৎকার করে উঠছি, স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে হিজাব পরে ক্লাস করা চলবে না। কারণ হিজাব ধর্মীয় পোশাক। মিডিয়া আমাদেরকে বলে দিচ্ছে না পাগড়িও ধর্মীয় পোশাক। তাই আমরাও বলতে পারছি না। পাগড়ি পরেও ক্লাস করা চলবে না। হিজাব পরে ক্লাস করলে বাকি শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত লাগতে পারে। শিক্ষাঙ্গনের ড্রেসকোড বিধি ভঙ্গ হতে পারে। কিন্তু একই যুক্তিতে পাগড়ি পরে ক্লাস করলে এই অসুবিধেগুলি হবে না। কারণ, দেশের মিডিয়া আমাদেরকে সেই অসুবিধের কথা এই মুহুর্তে বলে দেয়নি। এক বছর ধরে মিডিয়া যখন পাগড়িধারী কৃষকদেরকে দেশদ্রোহী খালিস্তানি এবং নকল কৃষক বলে চালাচ্ছিল। আমরাও তখন একই কথা বলে চলছিলাম। চমক ভাঙার কথা ছিল, ১৯শে নভেম্বর। গুরু নানকের জন্মদিনে। না তাতেও চমক ভাঙেনি। তাই মিডিয়া আজ যখন উত্তরপ্রদেশ উত্তরাখণ্ডের বিধানসভায় শাসকদলকে পুনরায় ক্ষমতায় ফিরিয়ে নিয়ে আসতে আশি বনাম কুড়ি’র লড়াইয়ে আমাদের সামিল করতে চাইছে। হিজাব হিজাব করে। আমরাও সেই আশি বনাম কুড়ি’র লড়াইকে দেশময় ছড়িয়ে দেওয়ার ভিতরেই দেশপ্রেমের গন্ধ পাচ্ছি। যে গন্ধের সাথে গুজরাটের সাতাশটি ব্যাংকে ২২ হাজার ৮৪২ কোটি টাকা জালিয়াতির কোন গন্ধ আমাদের নাকে এসে লাগছে না। কারণ সেই একই মিডিয়া। নতুন করে বাইশ হাজার কোটি টাকার ব্যাংক জালিয়াতির গন্ধ নাকে এসে লেগে গেলে। আর তো আমাদের দেশপ্রেমিক সেজে থাকা সম্ভব হবে না। আমরা চোরের হদিশ নিতে চাইবো। চৌকিদারের হদিশ নিতে চাইবো। তাহলে আর দেশপ্রেম কিসের? প্রতিবছর গুজরাটের বিভিন্ন বন্দর দিয়ে লক্ষ লক্ষ কোটি টাকার মাদক ঢুকে গেলেও, আমাদের নাকে সেই গন্ধ এসে লাগার কোন উপায় নাই। কারণ মিডিয়া। মিডিয়া সেই গন্ধ নিয়ে সরব নয়। মিডিয়া বরং সেই একই সময়ে মাদক পার্টিতে শাহরুখ পুত্রের অংশগ্রহণ নিয়ে আসমুদ্রহিমাচল উত্তাল করে দিয়েছিল। রিয়া চক্রবর্তীর ভ্যানিটি ব্যাগে বাহান্ন গ্রাম মাদক প্রাপ্তি নিয়েও আমরা দেশ জুড়ে দেশপ্রেমের বন্যা নামিয়ে নিয়ে এসেছিলাম। কারণ সেই মিডিয়া। আমাদের যখন যা হোমটাস্ক দেবে। দেশপ্রেমিক সচেতন নাগরিকবৃন্দ মাথায় কলেজ বিশ্ববিদ্য়ালয়ের ডিগ্রী নিয়ে সেই টাস্ক বাড়ি থেকে ইনটারনেটে সুবোধ নাগরিকের দায়িত্বে পালন করে যাবে। সেইটুকুই আমাদের দায়িত্ব। আমাদের কর্তব্য। না, তাই বলে চোখ টেরিয়ে গুজরাটের দিকে তাকানো যাবে না। সেটা দোশদ্রোহ। গুজরাটের কোন মডেল ভারতবর্ষের ঘাড়ে চেপে বসেছে। সেটি তো ভাবাই যাবে না। কতজন গুজরাটি কত লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা দেশের সরকারী ব্যাংকগুলি থেকে বছরের পর বছর হাপিশ করে নিজেরাও ভ্যানিশ হয়ে যাচ্ছে। সেটা দেখার দায়িত্ব আমাদের নয়। তার জন্যেই তো চৌকিদার নিয়োগ করা হয়েছে। কিভাবে কার হাত সাফাইয়ে সাত দশক ধরে গড়ে তোলা জনগণের ঘাম ও রক্তের সরকারী সম্পত্তি সব বেহাত হয়ে যাচ্ছে। সেই হিসাবের ব্যালেন্সশীট মেলানোর অংকটি মিডিয়া আমাদেরকে দেওয়া হোমটাস্কে দিয়ে রাখেনি। ফলে সেই দিকে নজর দেওয়া নেক্সট টু ইমপসিবল। নজর দিন হিজাবে। নজর দিন রামমন্দিরে। নজর দিন লাইন অফ কন্ট্রোলে। নজর দিন পোশাক দেখে মানুষ চেনার সংস্কৃতিতে। নজর দিন, কার পকেটে নাগরিকত্বের কোন প্রমাণ আছে তার দিকে। নিজের পকেটে না থাকলে, এখনই মিসকল দিয়ে রাখুন বরং। বিশ্বের সর্ববৃহত সংঘের সদস্যপদ একবার পেয়ে গেলে হাঁপ ছেড়ে বাচুন না বাঁচুন অন্তত মনের ভিতর একটা বেশ বল অনুভব করতে পারবেন। কাগজ না থাক। একটা সদস্যপদ তো রয়েছে। ভারতবর্ষের নাগরিক ছাড়া নিশ্চয় এই বিশেষ সদস্যপদটি পাওয়া যাবে না। না, আদালত সংবিধান কে কোথায় কি বলছে আর বলবে। সেটা এই নতুন ভারতে আর বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়। আপনি মিডিয়ার পক্ষে আছেন না’কি বিপক্ষে রয়েছেন। সেটাই আসল লিটমাস টেস্ট। আপনির কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রী নিয়ে মিডিয়ার হোমটাস্ক নিয়মিত পালন করছেন, না করছেন না। সেটা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। আপনাকে দেখতে হবে। শুনতে হবে। আর বুঝে নিতে হবে, দিনের শেষে মিডিয়া কি বলছে। সকল আদালত আর সংবিধানের উর্ধে এখন মিডিয়াতন্ত্রের রাজত্ব। সেই রাজত্বে বাস করে আপনার পক্ষে মিডিয়ার চোখ দিয়েই তো সবটা বুঝে নিতে হবে। কে আপনার শত্রু। আর কে আপনার মিত্রোঁওওওওওওওও……………………………..

হিপোক্রেসি অল এরাউন্ড

হিপোক্রেসির একটা লিমিট থাকা দরকার। শিক্ষার্থীদের হিজাব পড়ার বিষয়ে যাঁরা বিরোধীতায় সরব। ক্রমাগত ফতোয়া দিয়ে চলেছেন। হিজাব পড়ে স্কুল কলেজে ঢোকা নিষিদ্ধ। আর কয়েকদিন পরে এই ফোতয়াই প্রকাশ্যে হিজাব পড়ার বিরুদ্ধে দেওয়া হবে। এই মানুষগুলি যে সম্প্রদায়েরই হোক না কেন। আফাগানিস্তানে তালিবানী ফতোয়ার মুণ্ডুপাত করে সেদেশটি মার্কিন সাম্রাজ্যের হাতে পরাধীন থাকুক বলে প্রকাশ্যে বিবৃতি দিয়ে থাকে। কারণ এঁরা তালিবানী ফতোয়া আর ধর্মীয় মৌলবাদের বিরুদ্ধে মতবাদ পোষণ করে নিজেদেরকে প্রাগ্রসর এবং গণতান্ত্রিক বলে দাবি করে। আফগানরা মার্কিনদের হাতে পরাধীন থাকলে এঁদের কাছে গণতন্ত্র বিপন্ন হয় না। হিজাব পড়া নিষিদ্ধ করার বিষয়টি এঁদের কাছে মৌলবাদী ফতোয়া নয়। তাই আজকে তাঁরাই ভারতবর্ষে হিজাব পড়ে স্কুল কলেজে ঢোকা নিষিদ্ধ করতে সরব হয়েছে। যুক্তি তাঁদের অপূর্ব। বিদ্যালয়ের ড্রেসকোড। বিদ্যালয়কে সাম্প্রদায়িক সংস্কৃতির হাত থেকে দূরে রাখতে হবে। সেই একই বিদ্যায়লয়ে গেরুয়া ওড়না পড়ে ঢুকলে। কপালে তিলক কেটে ঢুকলে। মাথায় ধর্মীয় পাগড়ি বেঁধে ঢুকলে ড্রেসকোডের বিধি লঙ্ঘণ হয় না। বিদ্যালয়ে সরস্বতী পুজা করলে সেটি সাম্প্রদায়িক সংস্কৃতি নয়। বিদ্যালয়ে বড়দিন পালন সম্প্রদায়িক সংস্কৃতি নয়। শুধুমাত্র হিজাব পড়ে বোরখা পড়ে ঢুকলেই সেকুলার ভারত বিপন্ন। স্কুলের ড্রেসকোড বিধি ভঙ্গ হয়ে যায়। ভারতবর্ষে হিন্দুরা বিপন্ন হয়ে পড়ে।

১০ই ফেব্রুয়ারী’ ২০২২

শিক্ষার ভুগোল

কৃষ্ণনগর কলেজিয়েট স্কুলের ঘটনা। দুই শিক্ষকের ভিতরে মারপিট। সাংবাদিকদের ক্যামেরার সামনে। ভুগোল শিক্ষক প্রধান শিক্ষকের গায়ে হাত তোলায় প্রধান শিক্ষক তেড়ে উঠে ভুগোল শিক্ষকের উপরে চড়াও হয়ে এলোপাথারি ঘুষি মারতে শুরু করেন। সাংবাদিকরা এক শিক্ষককে ছেড়ে আর এক শিক্ষককে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার জন্য প্রশ্ন করতে শুরু করে। অপর শিক্ষক পাশের চেয়ারে বসে পা দোলাতে শুরু করেন। ঘটনা এইটুকু। সেই ছবিই ভাইরাল। ঘটনার আগে পরে মূল বিষয় কি। সেই বিষয় বাদ দিলেও। একটি সরকারি বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষক নিজেদের ভিতরে মারপিটে জড়িয়ে পড়লেন। সময় ২০২২ সাল। দেশ স্বাধীন হওয়ার পঁচাত্তর বছর পরে। তাও আবার এমনই একটি স্কুলে। বঙ্গসংস্কৃতির বহু প্রতিভা যে স্কুল থেকে তৈরী হয়েছে। স্কুল বিখ্যাত হোক আর অখ্যাত। প্রশ্ন সেখানে নয়। একটি সরকারী স্কুলের দুই শিক্ষক। যার ভিতরে একজন আবার সেই স্কুলেরই প্রধান শিক্ষক। তাঁরা নিজেদের ভিতরে মারপিটে জড়িয়ে পড়ছেন। বাকি শিক্ষকদেরকে ছুটে এসে সেই মারপিট থামাতে হচ্ছে। না, বোম্বাই মার্কা হিন্দী সিনেমাতেও এমন দৃশ্য সহজলভ্য নয়। কিন্তু সংস্কৃতির পীঠস্থান বাংলায় এই ঘটনা ঘটছে। যে ঘটনাকে একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে মনে করলে দিবানিদ্রায় প্রলয় ঠেকানোর প্রয়াসের মতোন ব্যাপার হবে। স্বাধীনতার সাড়ে সাতদশক ধরে ক্রমাগত ভাবে চলতে থাকা সমাজিক অবক্ষয়ের এটি হিমশৈলের চুড়া মাত্র। এটাই এই দেশে শিক্ষা ব্যবস্থার প্রকৃত স্বরূপ। শিক্ষকদের নৈতিক চরিত্র এবং শিক্ষার বহর দুইই অধঃপতনের প্রায় শেষ সীমায় পৌঁছিয়ে গিয়েছে। শিক্ষা ব্যবস্থার হাল যাঁদের হাতে। তিনি শিক্ষক হোন। বুদ্ধিজীবী হোন। শিক্ষানীতির আইন প্রণেতা হোন। শিক্ষা দপ্তরের পরিচালক হোন। কিংবা রাষ্ট্রীয় স্তরে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার নিয়ামকই হোন। প্রত্যেকেই আজ এক অশিক্ষিত অসভ্য অপদার্থ সামাজিক সংস্কৃতির উত্তরাধিকার বহন করছেন। উত্তরাধিকারের কথা বলতে হচ্ছে। তার কারণ একটিই। সাম্প্রদায়িক ভাগবাঁটোয়ারার ভিত্তিতে পাওয়া স্বাধীনতার পর থেকে ধারাবাহিক ভাবে যে সামাজিক অবক্ষয়ের শিকড় একটি গোটা জাতির জীবনে ক্যানসারের মতোন শাখাপ্রশাখা বিস্তার করে ছড়িয়ে পড়েছে। আমাদের শিক্ষক শিক্ষিকারাও সেই একই সামাজিক অবক্ষয়ের ফসল। ফলে তাঁদের পক্ষে এক অশিক্ষিত অসভ্য অপদার্থ সামাজিক সংস্কৃতির উত্তরাধিকার বহন করা ছাড়া আর উপায়ই বা কি? সমাজবিপ্লব ছাড়া এই সামাজিক অবক্ষয় প্রতিরোধের আর কোন উপায় নাই। ফলে সমাজবিপ্লব যতই সুদূরপরাহত থেকে যাবে। এই সমাজিক সংস্কৃতির অবক্ষয় ততই সর্বাত্মক হয়ে জাতির প্রকৃতি হিসাবেই পরিচিত হয়ে উঠতে থাকবে। যে শিক্ষকের হাতে একটি জাতির ভবিষ্যত নির্ভর করে। সেই শিক্ষকের প্রকৃতির ভিতর দিয়েই সমগ্র জাতির আত্মপরিচয়ের নির্মাণ হতে থাকে। এটি ইতিহাসের বিধান। কোন দেশ। কোন জাতি। এই বিধানের বাইরে নয়। কৃষ্ণনগর কলেজিয়েট স্কুলের ঘটনা আমাদের সেই আত্মপরিচয়েরই অভ্রান্ত চালচিত্র।

২রা ফেব্রুয়ারী’ ২০২২

ভারতবর্ষের বাজেট

সরকার বাজেট পেশ করে বছরে একদিন। কিন্তু তাই নিয়ে সাধারণ মানুষের কিছু এসে যায় না। চাকুরীজীবীদের একাংশ তাকিয়ে থাকে কর ছাড়ের সীমা বাড়ানো হলো কিনা। খবরের কাগজে মুখ দিয়ে চলা একদল চোখ বুলিয়ে নেয় কোন জিনিসের উপরে কর বাড়লো। আর কোনটায় কিছুটা কমল। এর বাইরে বাৎসরিক বাজেট নিয়ে মানুষের ভিতরে আর কোন কৌতুহল থাকে না। কেউ খোঁজ করে না। দেশের বেকার সমস্যার সমাধানে বাজেটে কোন দিশা রয়েছে কিনা। সরকারের কোন পরিকল্পনা রয়েছে কিনা। মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকার দায়বদ্ধ কিনা। নতুন নতুন কর্মসংস্থান গড়ে তুলতে সরকার অর্থনৈতিক সংস্কার আনছে কিনা। ধন বৈষম্য বৃদ্ধি না হ্রাস। কোনটা সরকারের মূল লক্ষ্য। কেউ খেয়াল করে না সরকারী ব্যায়বরাদ্দে শিক্ষা স্বাস্থ্য কৃষি খাতে কত শতাংশ ব্যায় বরাদ্দ কমিয়ে দেওয়া হলো। আর সামরিক সরঞ্জাম ক্রয়ের বরাদ্দে কত শতাংশ ব্যায় বৃদ্ধির লক্ষ্য ধার্য্য করা হলো। দেশের সুরক্ষার ধুয়ো তুলে সামরিক খাতে ব্যায় বরাদ্দ বৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের জীবন জীবিকার কতটা ক্ষতি সাধন হয়। কিভাবে হতে থাকে। না, আমাদের সেই বিষয়ে কোন মাথাব্যথা নাই। উল্টে ব্যায় বরাদ্দ যত বৃদ্ধি পেতে থাকে আমাদেরও দেশপ্রেম তত চাগিয়ে উঠতে থাকে। পাকিস্তান আর আজকাল চীনকে টাইট দেওয়ার আশায়। ফলে দারিদ্র্য সীমায় বসবাস করা জনগণের ভিটেমাটি চাঁটি করে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে প্রতিবছর বাজেট পেশ হতে থাকে। আর ধনী আরও ধনী হতে থাকে। বিশ্ব ধনকুবের তালিকায় কজন ভারতীয়ের নাম উঠলো। বরং সেই খবর দেখিয়ে আমাদের বোঝানো হয়। দেখ ভারত কত উন্নত হয়ে উঠছে।

১লা ফেব্রুয়ারী’ ২০২২

তোলাবাজির ২১ টাকা+

পেয়েছেন তো? সেই গলাভরা মেসেজ! সাধের স্মার্টফোনে? আপনার নিজের টাকা। নিজের ব্যাংক একাউন্ট থেকে এটিএম মেশিনের মাধ্যমে মাসে মাত্র পাঁচবার তোলা যাবে। আপাতত মাসে পাঁচবার। অনুমান করা যায়। এরপর মেসেজ আসবে সপ্তাহে একবার। তারপর টাকা তুলতেই পারেন। আর দরকারে তুলবেন নাই বা কেন? যেমন ধরুন অযোধ্যায় রাম মন্দির নির্মাণে যেরকম পুকুরচুরি চলছে। তাতে ভিত নির্মাণের পরেই আবার রামমন্দিরের নামে চাঁদা দেওয়ার সুযোগ লাভ করতেই পারেন। তখন দরকারে মাসে ষষ্ঠবার টাকা তুলেই রামমন্দির ট্রাস্টে আপনার চাঁদা দেওয়ার ইচ্ছা হতেই পারে। কথায় বলে রামরাজত্ব। তায় আবার বহু দশকের বাসনা পূরণের রামমন্দির নির্মাণ হচ্ছে। কিন্তু তখন আপনার ব্যাংক ব্যালেন্স থেকে শুধুমাত্র চাঁদার টাকাটাই যে কমে যাবে তাও নয়। সাথে আরও ২১ টাকাও কমে যাবে। তার উপরেও তোলা টাকার উপরে নির্ধারিত জিএসটিও কাটা যাবে ব্যাংক ব্যালেন্স থেকে। এরকম ভাবেই পাঁচ বারের পর যতবারই এটিএম মেশিনে কার্ড ঢুকিয়ে নগদ তুলতে যাবেন। ততবার করে জয়শ্রীরাম বলে ঐ ২১ টাকা প্লাস নির্ধারিত জিএসটি কিন্তু কাটা পড়বে আপনার ব্যাংক ব্যালেন্স থেকে। আর যদি অন্য কোন ব্যাংকের এটিএম মেশিন থেকে টাকা তুলতে থাকেন তবে কিন্তু চতুর্থ বার থেকেই জিএসটি সহ এই ২১টাকা করে টাকা কমতে থাকবে ব্যাংক ব্যালেন্স থেকে। এখন আপনি বেশি বুদ্ধিমান, নাকি আপনার ভোটে নির্বাচিত সরকার বেশি বুদ্ধিমান। সেটি জানতে হলে নিজের ব্যাংকের এটিএম মেশিন থেকে এক মাসে পাঁচবার টাকা তুলেই দৌড়াতে হবে অন্য কোন ব্যাংকের এটিএম মেশিনে। তখন টের পাওয়া যাবে কে বেশি বুদ্ধিমান! আশা করা যায়, সামনের দিনে জয়শ্রীরাম বলে ব্যাংকে টাকা রাখার ভাড়াও গুনতে হতে পারে। তাতে অবশ্য আমাদের খুশি থাকারই কথা। সবটাই তো দেশের ভালোর জন্য হচ্ছে। যা হচ্ছে গত সাত বছর ধরে। ব্যাংকের সেভিংস একাউন্টে লাফিয়ে লাফিয়ে সুদের পরিমাণ কমে যাওয়া থেকে শুরু করে লাফিয়ে লাফিয়ে রান্নার গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি, পেট্রোল ডিজেলের দাম বৃদ্ধি। সরকারী সংস্থাগুলি জলের দরে বেচে দেওয়া। সবই তো দেশের ভালোর জন্য। আমার আপনার কন্ট্রিবিউশন। সত্যিই তাই, ২০১৪’র আগে আমরা কিন্তু এমন ভাবে দেশসেবার সুযোগই পাইনি। স্বাধীনতার পর সাত সাতটি দশক বৃথা চলে গিয়েছিল আমাদের জীবনে। এখন আমাদের সুদিন। দেশসেবক রূপে গর্বিত ভারতীয় হয়ে ওঠার সুযোগ পেয়ে ধন্য আমরা।

৩রা জানুয়ারী’ ২০২২

তাঁর চিত্তে অথৈ বিত্তে

কি আনন্দ কি আনন্দ কি আনন্দ। সত্যিই তো মনের ভিতরে আনন্দের বান ডাকলে মানুষ আর কিই বা করতে পারে? তাতা থৈথৈ তাতা থৈথৈ নৃত্য করা ছাড়া। আর পাশে যদি মনের মানুষ দাঁড়িয়ে থাকে ধুতি পাঞ্জাবি পড়ে্। তবে তো কথাই নাই। মনের মানুষের চারধারে ঘুরে ঘুরে নৃত্য করা ছাড়া তখন আর অন্য কিছু করা যায় নাকি? সত্যিই যায় না। আপনারাই দেখুন না। আপনার নামে বাড়ি গাড়ি সম্পত্তি যদি কেউ এমনিই লিখে দেয়! স্থাবর অস্থাবর যা’কিছু নিজের। সেই সব। সবকিছুই যদি কেউ আপনার নামে লিখে দিয়ে আপনাকে নিঃশর্তে দান করে দেয়। কি হবে তখন আপনার মনের অবস্থা? কোটি কোটি টাকার সম্পত্তির হঠাৎ মালিক হয়ে গেলে মনের ভিতরে কোন আনন্দের বান ডাকে, সে’তো আর আপনার দেখার সুযোগ হয়নি, না। আলাদীনের প্রদীপ হাতে যাঁরা চলাচল করে। তাঁরা তো আর আমার আপনার জীবনের পাশে এসে দাঁড়াবে না। কি করে হবে আমাদের তেমন কোন অভিজ্ঞতা? তাই অনন্দ ঠিক কোন স্তরে গিয়ে পৌঁছালে মনের মানুষের চারধারে ঘুরে ঘুরে তাতা থৈথৈ তাতা থৈথৈ নৃত্য করা যায়, সেটা সকলের পক্ষে টের পাওয়াই সম্ভব নয়। তাই পাওয়ার কথাও নয়। এতেই এই। এর সাথে যদি বিধানসভায় দুটি আসন থাকতো। তবে তো সোনায় সোহাগা হতো। হবে হয়তো তাও। একটি আসন তো ছিলই। আসন ছিল। মন্ত্রীত্ব ছিল। নেতৃত্ব ছিল। ছেলে মেয়ে ছিল। ভালোবাসার বৌও ঘরে ছিল। কিন্তু এতকিছুও কিন্তু কিছুই করতে পারেনি। আটকাতে পারেনি। মনের মানুষ তার সর্বস্ব দান করে ধরা দিয়েছে আঁচলে। এখনই তো নৃত্য করার সময়। এখনই তো ‘মমচিত্তে নিতি নৃত্যের সময়। কবিগুরু কত না বড়ো ভবিষ্যতদ্রষ্টা ছিলেন। এই আনন্দের জন্যেই না এক শতাব্দী আগেই গান লিখে রেখে গিয়েছিলেন। সেদিন থেকে এক শতাব্দী পড়ে কারুর মনে আনন্দের বান ডাকলে এই গানই সামলিয়ে দেবে। ভাগ্যে কবিগুরু এক শতাব্দী আগেই টের পেয়ে গিয়েছিলেন। আসবে, আসবে এমনও একটি দিন আসবে। মনের মানুষের চারধারে ঘুরে ঘুরে নৃত্য করতে এমন একটি গানই তো লাগবে। তাই কবি আর সময় নষ্ট করেননি। লিখে রেখে গিয়েছিলেন সেই গান। এক শতাব্দী পড়ে যে গান কাজে লাগবে। সত্যিই এমন ভাবেই কবির সৃষ্টি সার্থকতার মুখ দেখলো এক শতকের পরে। ধন্য হলেন আমাদের কবি। এমন ভাবেও সার্থক হওয়া বাকি ছিল তাঁর অনুপম সৃষ্টির। বাকি কাজটুকু শুধু ভোটারদের দায়িত্ব। একটু ক্ষমতার মসনদে বসিয়ে দেওয়া। সেলিব্রেশনও তাহলে মধুরেণসমাপয়েৎ হয়ে উঠতে পারে।

১লা অক্টোবর’ ২০২১

প্লাস্টিক রাজনীতি

গল্পটা খুবই চেনা। প্রতিবারই স্ক্রিপ্ট একটাই। কোন পরিবর্তন নেই। নেই কোন সংশোধন। প্রায় রোজকার পাঁচালির মতো একই সুরে সরব হওয়া। না, গল্পটা শেষও হয় না কখনো। অবিরাম চলতে থাকে। বাম আমলের স্ক্রিপ্টই পরিবর্তনের পরেও একই রয়ে গিয়েছে। স্ক্রিপ্টের কোন পরিবর্তন হয়নি। গল্পের কথক বদলিয়ে গিয়েছে মাত্র। ফলে আবারো গল্পবলা শুরু হলো। টিভি খুলতেই। পরের দিনের কাগজেও গল্পটা লেখা থাকবে। আপাতত দিন নির্ধারণ করা হয়েছে ১লা অক্টোবর। রাজ্যজুড়ে সকল পুরসভাতে নোটিশ পাঠানো হয়েছে বলেই খবরে প্রকাশ। ৭৫ মাইক্রনের কম প্লাস্টিক ব্যবহার করতে দেখলেই ব্যবহারকারীর বিরুদ্ধে তিন হাজার টাকা পর্য্যন্ত জরিমানা ধার্য্য করা হবে। হ্যাঁ জরিমানার পরিমান হয়তো বাড়তে থাকে প্রত্যেকবার। কিন্তু গল্পটা সেই এক জায়গাতেই দাঁড়িয়ে থাকে। যত দোষ নন্দঘোষ। পুরসভার এলাকায় দোকান বাজারে হানা দাও। দেখ কে ৭৫ মাইক্রনের কম প্লাস্টিকের ক্যারিব্যাগ ব্যবহার করছে। দোকানী বা ক্রেতা যেই হোক। ধরতে হবে। বেশ একটা হই হই রব। দোকানে বাজারে প্রথম কয়দিন নো ক্যারিব্যাগ স্লোগান দোকানীদের মুখে মুখে। বেজার ক্রেতার হাতে কাগজের ঠোঁঙা ধরিয়ে দেওয়া। কিংবা ক্রেতার ব্যাগেই জিনিস পত্তর ঢেলে দাও। কিন্তু ক্যারিব্যাগ কভু নয়। কোটা পুরণের জন্য ধরতে হবে জনা কয়েককে। একটু ধস্তাধস্তি। বাদানুবাদ। জরিমানার টাকা গোনা। দিন কয়েক যেতে দাও। পুরকর্মী থেকে পুলিশের আসা যাওয়া থিতিয়ে যাক। তারপর পুরকর্মীই হোক কিংবা পুলিশ। এবং সাধারণ ক্রেতা। সকলের হাতেই আবার সেই ক্যারিব্যাগ। প্রথম প্রথম একটু রং পাল্টিয়ে হলেও হতে পারে। কারুরই পকেটে মাইক্রন মাপার যন্ত্র নেই। ক্যারিব্যাগের মাইক্রন যাই হোক না কেন। ক্রেতার মুখে হাসির প্রত্যাবর্তন। দোকানী নিশ্চিন্ত। পুরকর্মী থেকে পুলিশ আবার নিরব দর্শকের ভুমিকায়। এবং প্রশাসন আবার ব্যাস্ত নানাবিধ প্রশাসনিক কর্মে। গল্পের স্ক্রিপ্ট একটু এদিক ওদিক হওয়ার জো নাই। কোনদিন শোনা যাবে না, প্রশাসন ৭৫ মাইক্রনের নীচে ক্যারিব্যাগ তৈরী বা প্লাস্টিক তৈরী নিষিদ্ধ করে দিয়েছে্। কখনো দেখা যাবে না, প্রশাসন প্লাস্টিকের কারখানাগুলিতে তল্লাসি চালাচ্ছে নিয়মিত। যাতে রাজ্যের কোন প্লাস্টিক কারখানায় নির্দিষ্ট মাইক্রনের কমে কোন প্লাস্টিক দ্রব্য প্রস্তুত না হয়। কখনো দেখা যাবে না প্রশাসন পাইকারী বাজারগুলিতে ভিন রাজ্য থেকে আসা নির্দিষ্ট মাইক্রনের কমে প্রস্তুত প্লাস্টিকের দ্রব্য বাজেয়াপ্ত করা শুরু করেছে। কিংবা আসার সব কয়টি পথে নজরদারী বসিয়ে আসাই বন্ধ করে দিচ্ছে। না বাম আমলেও প্রশাসন এই কাজগুলি করেনি। পরিবর্তনের সরকারেও এই কাজ হবে না। ফলে গোড়ায় জল না ঢেলে সমস্যার আগায় জল ঢালার পুরোনো গল্পই ঘুরে ফিরে চলতে থাকবে। কারণ রাজ্যটি পশ্চিমবঙ্গ। শুধু অতিবৃষ্টিতে শহর নগর ভাসলে, প্রশাসনের মুখেই শোনা যাবে ক্যারিব্যাগের ক্যারিশ্মার কথা। অর্থাৎ প্রশাসনের গাফিলতি নয়। আসল কারণ সেই ক্যারিব্যাগ। জল আর কত বেশি দূর গড়াবে?

২৮শে সেপটেম্বর’ ২০২১

ধনবৈষম্য ও গণতন্ত্র

একশ আটত্রিশ কোটির উপরে দেশবাসী একদিকে। আর মাত্র ৬৩ জন ভারতীয় ধনকুবের আর এক দিকে। এই ৬৩ জনের পকেটে সারা ভারতের মোট সম্পদের ৭০%। আর বাকি তিরিশ শতাংশ সম্পদের ভাগ নিতে লড়াই চলছে ঐ একশ আটত্রিশ কোটি ভারতবাসীর। এবং বাকি এই ৩০% সম্পদের বেশির ভাগটিই আবার দেশবাসী মাত্র ১০% মানুষের নিয়ন্ত্রণে। ফলে সারা দেশের বাকি নব্বই শতাংশ মানুষের জন্য হয়তো পড়ে রয়েছে খুব বেশি হলে মাত্র পাঁচ শতাংশ জাতীয় সম্পদ। সকলেই যে এই সব পরিসংখ্যান বিশ্বাস করবেন, তেমনটাও নয় অবশ্য। যদিও পরিসংখ্যানগুলি বিশেষজ্ঞদের গবেষণায় উঠে আসা তথ্য। কিন্তু এটাই আসলে ভারতবর্ষের বাস্তব চিত্র। ভারতীয় গণতন্ত্রের এইখানেই সাফল্য। কারণ গণতন্ত্রের আসল কাজই হলো ধনতন্ত্রকে রক্ষা করা। আধুনিক বিশ্ববন্দোবস্তে ধনতন্ত্রের প্রধান রক্ষাকবচ আসলে গণতন্ত্রই। ঠিক এই কারণেই ধনতন্ত্রের প্রধান ঠিকাদাররা বিশ্বজুড়ে গণতন্ত্রের মহিমা কীর্তন করে বেড়ায়। আর প্রতিটি দেশে গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠার জন্য উঠে পড়ে লাগে। প্রয়োজনে সামরিক শক্তিতে এক একটি দেশ দখল করে হলেও সেদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে বেড়ায় ধনতন্ত্রকে রক্ষা করার জন্য। ধনতন্ত্র ঠিক তাই, যে ব্যবস্থায় দেশের মোট সম্পদের নব্বই শতাংশই মাত্র ১০ শতাংশ মানুষের পকেটে ঘুরে বেড়ায়। আর বাকি মাত্র ১০ শতাংশ সম্পদের ভাগ নিয়ে লড়াই চলতে থাকে নব্বই শতাংশ মানুষের ভিতর। এই লড়াইকেই আমরা বাজার অর্থনীতির প্রতিযোগিতা বলে চালিয়ে থাকি। মানুষকে বিশ্বাস করাতে। যে যত বেশি বুদ্ধি খাটাবে ও পরিশ্রম করবে সে তত বেশি সম্পদের মালিক হবে। সোজা কথায় টিকে থাকার প্রতিযোগিতাকে ধনকুবের হওয়ার প্রতিযোগিতা বলে চালানো আসলেই ধনতন্ত্রের সেই তুরুপের তাস। যেটি ফেলে ৯০% মানুষকেই বলির পাঁঠা বানানো যায়। আর সেটি সাফল্যের সাথে চালিয়ে যেতে হলে গণতন্ত্রই একমাত্র পথ। যেপথে সাপও মরবে। আবার লাঠিও ভাঙবে না। মানুষকেই বলির পাঁঠা বানানো হবে। অথচ মানুষ টেরও পাবে না। মানুষ গণতন্ত্রের ফাঁদে পড়ে ধনতন্ত্রের বলি হবে। ভারতবর্ষও এর কোন ব্যাতিক্রম নয়। বরং ধনতন্ত্রের অন্যতম বড়ো পীঠস্থা‌ন। যেখানে বলির পাঁঠা যত বেশি। সেখানে ধনবৈষম্যও ততধিক তীব্র। ধনবৈষম্য যত তীব্র ধনতন্ত্র তত সবল। এই যে মাত্র ৬৩ জন ভারতীয়ের পকেটে দেশের সম্পদের ৭০% আটকিয়ে রয়েছে। এখানেই ভারতীয় ধনতন্ত্রের সবচেয়ে বড়ো সাফল্য। এই সাফল্য সহজেই অর্জিত হয়নি। ভারতীয় গণতন্ত্রকে একটা শক্ত ভিতের উপরে দাঁড় করাতে না পারলে কিন্তু এই সাফল্য অর্জিত হতো না। ভারতের গণতন্ত্রই এই তীব্র ধনবৈষম্যের মূল চালিকা শক্তি। ফলে গণতন্ত্র যতদিন শক্তিশালী থাকবে। ততদিনই এই ধনবৈষম্য এমন তীব্র থেকে তীব্রতর হতে থাকবে।

১০ই সেপটেম্বর’ ২০২১

দিনে দুটি করে কলেজ প্রতিষ্ঠা?

বিগত সাত বছরে ভারতে ফেক নিউজের কারবার এমন ভাবেই জমে উঠেছে যে ভারতীয় রাজনীতির ইতিহাসে এ এক সম্পূর্ণ নতুন অধ্যায়ের সূচনা বলা যেতে পারে। শাসকদল, সরকার এবং মেইনস্ট্রীম সংবাদমাধ্যম ফেক নিউজের এক ত্রিবেনী সঙ্গম। পারস্পরিক সহযোগিতায় এই ফেক নিউজের কারবারকে এমন এক উচ্চতায় উত্তীর্ণ করে ফেলেছে যে, সাধারণ জনতার পক্ষে আসল খবরের নাগাল পাওয়াই ক্রমশ দুঃসাধ্য হয়ে উঠেছে। এবং ফেক নিউজ পরিবেশনে চোরের মায়ের বড়ো গলার মতোন কৌশল অবলম্বন করে এক বৃহত্তর জনগোষ্ঠীকে অন্ধভক্তেও পরিণত করা সম্ভব হয়েছে। সংবাদসূত্রের খবর, কেন্দ্রের শাসকদলের পক্ষ থেকে সম্প্রতি ঘোষণা করা হয়েছে, বিগত সাত বছরে সরকার নাকি গড়ে দৈনিক দুটি করে কলেজ প্রতিষ্ঠা করে দিয়েছে। যে কোন সাধারণ মানুষই এহেন ফেক নিউজে বিশ্বাস করে সরকার ও শাসকদলের সম্বন্ধে উচ্চ ধারণা পোষণ করবে। অথচ সেই সংবাদসূত্রের খবর থেকেই জানা যাচ্ছে, আসল খবর অন্য। বিগত সাত বছরে কেন্দ্র সরকারের প্রতিষ্ঠিত উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মোট সংখ্যা মাত্র ৭৪। কিন্তু তাহলে এই ফেক নিউজ প্রচারের মানে কি? আসল খবর, যারা এই ফেক নিউজ প্রচার করছে। তারা বিগত সাত বছরে ভারতে অন্যান্য রাজ্য সরকারগুলির প্রতিষ্ঠিত সকল উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি এবং সারাদেশে বেসরকারী উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির মোট সংখ্যা যোগ করে গড়ে প্রতিদিন দুইটি করে কলেজ প্রতিষ্ঠার পরিসংখ্যানে পৌঁছিয়েছে। আর সেই পরিসংখ্যানকেই কেন্দ্র সরকারের অবদান বলে ঢাকঢোল সহযোগে প্রচারে নেমে গিয়েছে। খবরে প্রকাশ, যে সময় সীমার কথা বলা হচ্ছে তাতে মোট ১৯৫৩ দিনের হিসাবে কেন্দ্র সরকারের প্রতিষ্ঠিত কলেজের সংখ্যা হওয়ার কথা ৩৯০৬টি! কিন্তু সেই সংখ্যা আসলে মাত্র ৭২টি। এবং সম্প্রতি প্রতিষ্ঠিত আরও দুইটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ধরলে সংখ্যাটি আজকের তারিখে গিয়ে পৌঁছায় ৭৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। এইভাবেই প্রতিদিন লোক ঠকানোর কারবার চালানো হচ্ছে একেবারে ক্ষমতার শীর্ষে বসে। শাসকদল এবং সরকারের যৌথ উদ্যোগে। সঙ্গে রয়েছে প্রায় গোটা মেইনস্ট্রীম মিডিয়া। ফলে ফেক নিউজকেই জনতার প্রতিদিনের সিলেবাস বানিয়ে দেওয়া হয়েছে সুনিপুণ কৌশলে। ফেক প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচনে জয়ী হওয়া। আর ফেক নিউজ ছড়িয়ে ক্ষমতা ধরে রাখা। এটাই সেই অত্যাধুনিক ফর্মুলা। যা ভারতীয় রাজনীতিতে এক যুগান্তর নিয়ে এসেছে।

৯ই আগস্ট’ ২০২১

পরিবর্তনের আগে পরে

পরিবর্তনের পক্ষে বিপক্ষে যত কথাই বলা যাক, আর নাই যাক। পরিবর্তনের সাথে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে যে একটা মস্ত বড়ো পার্থক্য সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সে বিষয়ে আশা করি কারুর সন্দেহ থাকার কথা নয়। অন্তত মুখ আয়নায় সৎ থাকলে আমাদের স্বীকার করতেই হবে, পরিবর্তনের পূর্বে রাজ্যের সরকারী মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক কেলেঙ্কারী সহ ঘুষ ও তোলাবজির কোন অভিযোগ দেখা যেত না। পরিবর্তনের পূর্বে কোন মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে সিবিআই তদন্তের নজির আছে বলে মনে হয় না। পরিবর্তনের পূর্বে রাজ্য সরকারের মন্ত্রীদের সম্বন্ধে জনমানসে যে সম্ভ্রম দেখা যেত। পরিবর্তনের পরে তেমনটা বজায় রয়েছে বলে জোর দিয়ে বলাও যাচ্ছে না। এমনকি রাজ্যজুড়ে গুণ্ডা বদমায়েশ থেকে শুরু করে সমাজবিরোধী ও অপরাধ জগতের মাফিয়ারা আজ যেভাবে রাজ্য রাজনীতিতে সদর্পে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। পরিবর্তনের পূর্বে কি ঠিক তেমনটাই দেখা যেতো? না, বাম আমলের রাজনীতি সম্পূর্ণ ভাবে দুর্বৃত্ত মুক্ত ছিল একথা কেউই বলতে পারবে না। বললে তার ঐতিহাসিক সত্যতার পক্ষে প্রমাণ দেখানোও কষ্টসাধ্য নিঃসন্দেহে। কিন্ত আজকের মতো অবস্থা ছিল না নিশ্চয়ই। রাজ্য রাজনীতির নিয়ন্ত্রণ আজ যতটা পরিমাণে মাফিয়াদের হাতে চলে গিয়েছে। পরিবর্তনের পূর্বে বাম আমলে ঠিক সেই মাত্রায় রাজনৈতিক অবক্ষয় ঘটে ছিল কি? বস্তুত গোবলয়ের রাজনৈতিক সংস্কৃতি আজ যেমাত্রায় এবং যেভাবে রাজ্য রাজনীতিতে শিকড় বিস্তার করতে সমর্থ্য হয়েছে। পরিবর্তন না হলে, মনে হয় না অবস্থা এতটা খারাপ হতে পারতো। রাজনৈতিক নেতানেত্রীদের বিদ্যাবুদ্ধি স্বভাবচরিত্র আচারআচরণে বাম আমলেও প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিতে শুরু করেছিল। কিন্তু সেটি ছিল ব্যতিক্রম মাত্র। আজকে কিন্তু সেটাই রাজনৈতিক সংস্কৃতি হয়ে দাঁড়িয়ে গিয়েছে। মাত্র দশ বছরে এতটা পরিবর্তন সত্যই দেখার মতো। ভাবার মতো। যদিও ভাবার মতো সুস্থ মানসিক স্থিতি আজ আর বিশেষ অবশিষ্ট নাই। রাজনীতির সাথে তোলাবজি কাটমানি দুর্নীতি নতুন কিছু নয়। কিন্তু আজকে রাজনীতি আর তোলাবাজি কাটমানি দুর্নীতিকে আলাদা করে দেখা সম্ভব নয়। এই অবস্থা কিন্তু পরিবর্তনের পূর্বে এই মাত্রায় ছিল না। যদি থাকতো তবে তার আঁচ কিন্তু ঠিকই গিয়ে লাগতো সেই সময়ের মন্ত্রী ও শাসকদলের শীর্ষ নেতানেত্রীদের গায়েও। কিন্তু তেমন কোন চিত্র আমরা দেখেছি বলে মনে পড়ে না। আজকে যেমন দেখা যাচ্ছে। প্রায় অধিকাংশ নেতামন্ত্রীদের সম্বন্ধেই দুর্নীতির অভিযোগ। এটাও ঠিক সিবিআই পিছনে ঘোরা মানেই যে, কেউ দুর্নীতির সাথে যুক্ত তাও নয়। কারণ সিবিআই ব্যবহৃত হয় সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশে কেন্দ্রের শাসকদলের স্বার্থে। আবার সেই স্বার্থেই সিবিআইকেও ক্রমাগত লুকোচুরি খেলতে হয় আইনের সাথেই। ফলে সারদা নারদার দাগী অপরাধীদের বিচারই শুরু হয়নি আজও। সব মিলিয়ে পরিবর্তন যে সার্থক। সেই বিষয়ে কোন সন্দেহ নাই। পরিবর্তনের আগে পড়ে রাজ্য রাজনীতির অভিমুখ সম্পূর্ণ বিপরীত দিকে প্রবাহিত। রাজ্যবাসীকেও চলতে হচ্ছে সেই একই অভিমুখে। কারণ খুব সুস্পষ্ট। যাদের উপরে আশা করার কথা ছিল। তারাই ভ্যানিশ হয়ে গিয়েছে রাজ্য রাজনীতির মেইনস্ট্রীম থেকে। এটা রাজনৈতিক সন্ন্যাস না অপদার্থতা সময়ই উত্তর দেবে আগামীতে।

৮ই সেপটেম্বর’ ২০২১

নাগপুর সংস্কৃতির বিষবৃক্ষ

কি হচ্ছে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে? একে একে দেশের একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কব্জা নিয়ে নিচ্ছে নাগপুর। পশ্চিমবাংলায় কাজটা এমনিতে সহজ নয়। কারণ এখনো রাজ্যের দখল নিতে পারেনি কেন্দ্রের শাসকদল। যেদিন রাজ্যের দখল নিয়ে নেবে। সেদিন থেকেই তারা রাজ্যের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের দখল নিতে ঝাঁপিয়ে পড়বে। কিন্তু ততদিনের জন্যেও অপেক্ষা করতে রাজি নয় কেন্দ্রের শাসকদল। ফলে রাজ্যে তাদের প্রথম টার্গেট হয়ে পড়েছে রবীন্দ্রনাথের অনুপম সৃষ্টি বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যায়। কারণ এই একটি বিশ্ববিদ্যালয়। রাজ্যে অবস্থিত হলেও, মূল নিয়ন্ত্রণ ও কর্তৃত্ব রয়েছে কেন্দ্রের হাতেই। আর সেই ফাঁক দিয়েই কেন্দ্রের শাসকদল তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ করেই বিশ্বভারতীতে নাগপুর সংস্কৃতির আমদানী করতে চাইছে। লক্ষ্য তাদের বিশ্বভারতীতেই মৌলবাদী হিন্দুত্বের বিষবৃক্ষের রোপন। এরপর বিশ্বভারতীর পঠনপাঠনে সরাসরি ঢুকে পড়বে নাগপুর সংস্কৃতি। আর নাগপুর সংস্কৃতির হাত ধরেই সারা রাজ্যে মৌলবাদী হিন্দুত্ব তার শিকড় বিস্তারের কাজ শুরু করে দেবে একেবারে বিশ্ববিদ্যালয়ের পর্যায় থেকেই। সেই লক্ষ্যেই বিগত সাত বছর ধরে বিশ্বভারতীর গৈরিকীকরণ শুরু হয়ে গিয়েছে একটু একটু করে। বিশ্বভারতীর বর্তমান উপাচার্য সেই লক্ষ্যেরই নিষ্ঠাবান উপাসক হিসাবে গোটা বিশ্বভারতীর রাবীন্দ্রিক সংস্কৃতির উপরে সরাসরি আঘাত হানতে প্রয়াসী হয়েছেন। যে কারণে বর্তমানে এই বিশ্ববিদ্যালয়কে রাজ্যের প্রধান বিরোধী দলের কেষ্টবিষ্টুরা এখনই প্রায় নিজেদের দলীয় কার্যালয়েরই সম্প্রসারিত শাখা হিসাবেই দেখতে চাইছেন। ফলে রাজ্যের প্রধান বিরোধী দলের নেতা নেত্রী মন্ত্রী সাংসদ বিধায়করা এই বিশ্ববিদ্যালয়ের মঞ্চকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহারের প্রয়াস জারি রেখেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের মঞ্চকে ব্যবহার করে তারা মাঝে মধ্যেই তাদের নাগপুর সংস্কৃতির অমৃতবাণী প্রচারে ব্যস্ত। উদ্দেশ্য সুস্পষ্ট। বাংলায় হিন্দি হিন্দু হিন্দুস্থানী তত্ত্বের আমদানী ও পত্তন করা। বিশ্বভারতীর বর্তমান উপাচার্যের উপরেই এই মহান কাজের প্রধান দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে। সারা ভারতেই এই একই কাজ বিগত সাত বছর ধরে শুরু হয়েছে। একটার পর একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপরে নাগপুর সংস্কৃতি কায়েম করতে বেছে বেছে নিজেদের লোক বসিয়ে দেওয়া হয়েছে উপাচার্যের পদে। ফলত উপাচার্যরা তাদের উপর অর্পিত দায়িত্বের পালনে বিশ্ববিদ্যালয়ে জ্ঞানবিজ্ঞান সংস্কৃতিচর্চার উর্ধে হিন্দি হিন্দু হিন্দুস্তানের চর্চাকেই প্রধান করে তুলতে উঠে পড়ে লেগে গিয়েছে। বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান ঘটনাবলীও এই প্রক্রিয়ার ভিতর দিয়ে এগিয়ে চলেছে। এখন দেখার বিষয় একটাই। বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় কি শেষমেশ এই নাগপুর সংস্কৃতির হিন্দি হিন্দু হিন্দুত্বের চাপের কাছে মাথা নত করতে বাধ্য হবে? এবং রবীন্দ্রনাথের বিশ্বভারতী থেকেই কি বাংলায় মৌলবাদী হিন্দুত্বের বীজ বোনা শুরু হতে চলেছে? না’কি বাঙালি সর্বভারতীয় এই চক্রান্তের হাত থেকে বিশ্বভারতীকে এবং বাংলাকে রক্ষা করতে সক্ষম হবে? বিশেষ করে যেখানে বাঙালির সবচেয়ে বড়ো শত্রু বাঙালিই। আজ যারা নাগপুরের প্রতিনিধিত্ব করছে বাংলার মাটিতে। তাদের হাতেই কিন্তু আজকে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়। তাদের হাতেই আজকে বাংলায় সরকার বিরোধী রাজনীতির মূল ভরকেন্দ্র। সেখানে বাঙালির পক্ষে আত্মরক্ষার পথ কিন্তু আদৌ সহজসাধ্য নয়। আদৌ মসৃণ নয়।

৭ই সেপটেম্বর’ ২০২১

মিশন ইউপি

উত্তরপ্রদেশের মজপফরনগরে সংযুক্ত কিষাণ একতা মোর্চার মহাপঞ্চায়েত হয়ে গেল। এতবড়ো জনসমাবেশ সারা ভারতে এর আগে খুব কমই হয়েছো। মহামঞ্চায়েতের মূল লক্ষ্য তিন কৃষি আইন বাতিল ও ফসলের ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের আইনী নিশ্চয়তার সরকারী স্বীকৃতি হলেও, এই মহাপঞ্চায়েত থেকেই মিশন ইউপি’র ডাক দেওয়া হল। মিশন ইউপির বাংলা হলো ‘নো ভোট টু বিজেপি’। মহাপঞ্চায়েতে একাধিক কৃষক নেতার কন্ঠে পশ্চিমবঙ্গের সদ্যসমাপ্ত নির্বাচনের প্রসঙ্গ ফিরে এলো। রাজ্যে ‘নো ভোট টু বিজেপি’ আন্দোলনের সাফল্যকে সামনে রেখেই মিশন ইউপির ডাক দেওয়া হয়েছে। লক্ষ্য আগামী ফেব্রুয়ারী মার্চের উত্তরপ্রদেশের বিধানসভা নির্বাচন। এই মহাপঞ্চায়েতে দেশের প্রায় আঠারোটি রাজ্যের কৃষক প্রতিনিধিরা সমবেত হয়েছিলেন। পাঞ্জাব হরিয়ানা ও উত্তরপ্রদেশের লক্ষ লক্ষ কৃষকের পদধ্বনিতে প্রায় তিনদিন গোটা শহর মুখরিত ছিল। কৃষকরা সাম্প্রদায়িক ভেদাভেদের উর্ধে উঠে উত্তরপ্রদেশের এবং ভারতবর্ষের বর্তমান শাসকশ্রেণীকে গদি থেকে টেনে নামানোর শপথ নিতেই দূর দূরান্ত থকে সমবেত হয়েছিলেন। তাদের ভিতরে প্রত্যয় ও বিশ্বাসের দৃঢ়তা সত্যিই দেখার মতোন ছিল। এই মহাপঞ্চায়েতের সাফল্য এবং প্রদর্শিত ঐক্যবদ্ধ শক্তির আত্মপ্রত্যয় যে কোন সরকারের রাতের ঘুম কেড়ে নেওয়ার পক্ষে যথেষ্ঠ। এখন উত্তরপ্রদেশের সরকার কোন পন্থায় এই মিশন ইউপি আন্দোলনের মোকাবিলা করবে। সেটাই দেখার। অবশ্যই এত বড়ো আন্দোলনের মোকাবিলায় চোরাগোপ্তা হানা ছাড়া সরকারের হাতে অন্য কোন পথ আর খোলাও নেই। আর চোরাগোপ্তা হানায় পদ্মশিবিরের সাফল্য ভারতীয় রাজনীতির ইতিহাসে প্রায় আন প্যারালাল। এত বড়ো মহাপঞ্চায়েত থেকে যে ছবি ফুটে উঠছে, তাতে বর্তমান রাজ্য সরকারের পক্ষে কোনভাবেই সামনাসামনি মিশন ইউপি আন্দোলনের মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। ফলে যে কাজে তারা সবচেয়ে বেশি দক্ষ। সেই সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার পথেই এগোবে কিনা। জানা যাবে আগামীতেই। ২০১৩ সালে এই একই মজপফরনগরে জাঠ ও মুসলিম ভোট ভাগ করতে এই সেপটেম্বর মাসেই তারা হিন্দুমুসলিমে দাঙ্গা লাগিয়ে দিয়েছিল। ফল মিলেছিল হাতে হাতে। ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে সরকার গঠনের অধিকার লাভ করে। প্রতিটি কৃষকের মুখে সেই দাঙ্গার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের অঙ্গীকার ছিল চোখে পড়ার মতোন। মিশন ইউপি’র যে ডাক দেওয়া হলো এই মহাপঞ্চায়েতে। সেই ডাক সারা উত্তরপ্রদেশ ও উত্তরাখণ্ডেও ছড়িয়ে দিতে বিশেষ উদ্যোগ নিচ্ছে সংযুক্ত কৃষক একতা মোর্চা। কৃষক নেতাদের সাফ কথা। সরকারের ঘুম ভাঙাতে ভোট পে চোট নীতি ছাড়া গতি নেই। তাই ভোটেই চোট দেওয়ার শপথ নিয়েই শেষ হলো মহাপঞ্চায়েত।

৬ই সেপটেম্বর’ ২০২১

রাজকোষে অর্থাভাব

দেশের সরকারের কথা অনুযায়ী সরকারের হাতে পর্যাপ্ত টাকার জোগান কম। সরকার শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে প্রতিবছর বাজেটে অর্থ বরাদ্দ কমিয়ে চলেছে। সরকারের পক্ষে সরকারী সংস্থা ও সম্পদ বিক্রী করা ছাড়া আর কোন উপায় নাই। এই বিষয়ে কেন্দ্র সরকারের পাশেই রয়েছে রাজ্য সরকারও। রাজ্যের শাসকদল কেন্দ্র সরকারের অর্থনীতির গতি প্রকৃতি নিয়ে বিশেষ উচ্চবাচ্য করতে আগ্রহী নয়। তাদেরও বক্তব্য, সরকারের হাতে পর্যাপ্ত অর্থ জোগানের অভাব রয়েছে। কেন্দ্রের প্রতি বঞ্চনার অভিযোগ তুলে রাজ্যবাসীর কাছে রাজ্য সরকার ক্রমাগত কাঁদুনি গাইলেও, কেন্দ্রীয় অর্থনীতির বিরুদ্ধে রাজ্যব্যাপী আন্দোলন সংঘটিত করতেও দেখা যায় না রাজ্যের শাসকদলকে। রাজ্য সরকার ভোটের দিকে লক্ষ্য রেখে যেসব জনপ্রিয় প্রকল্পে অর্থ বরাদ্দের বন্দোবস্ত করেছে তাতে রাজ্যের অর্থনৈতিক উন্নতির কোন দিশা নাই। কিন্তু বিভিন্ন প্রকল্পে জনগণের দীর্ঘ লাইনের হদিশ রয়েছে। ফলে জনগণ লাইনে দাঁড়িয়ে রয়েছে। জনগনকে দুই সরকারই একের পর এক লাইনে দাঁড় করিয়ে রেখে সরকারী বিজ্ঞাপন ও প্রচারে খরচ করে চলেছে হাজার হাজার কোটি টাকা। জনতার করের টাকায় প্রচার চলছে প্রধানমন্ত্রী থেকে মুখ্যমন্ত্রীর। প্রচার চলছে কেন্দ্র সরকার থেকে রাজ্য সরকারের। সরকারী প্রচারে রাজকোষের অর্থাভাব দেখা যায় না। দেশের প্রধানমন্ত্রী’র আবার বিশ্বভ্রমণের শখ। করোনাকালের আগে অব্দি দেশ প্রধানের সেই শখ মেটাতে কত হাজার কোটি টাকা খরচ হয়ে গিয়েছে রাজকোষ থেকে। তার সঠিক হিসাব অবশ্য জনতার কাছে নেই। এরই ভিতর দেশপ্রধানের শখের প্রজেক্ট সেন্ট্রাল ভিস্তায় কুড়ি থেকে ত্রিশ হাজার কোটি টাকা ব্যায়ের বন্দোবস্ত করা হয়েছে। সেই ব্যায় পরবর্তীতে কোথায় গিয়ে পৌঁছাবে কেউ জানে না। প্রধানমন্ত্রী’র জন্য প্রতিদিন সরকারের কত খরচ। তারও সঠিক হিসাব নাই জনতার কাছে। শোনা যায় প্রতিদিন তাঁর পাতে গড়ে তিনটি করে মাশরুম সার্ভ করতে খরচ প্রায় আড়াই লক্ষ টাকা। ভারতবর্ষে কতজনের মাসিক আয় আড়াই লক্ষ টাকা হতে পারে? না, আমাদের ধারণাও নেই। কিন্তু দেশপ্রধানের পাতে প্রতিদিন প্রায় আড়াই লক্ষ টাকার মাশরুম তুলে দিতে হয় জনগণের করের টাকায়। তাঁর ব্যক্তিগত বিমান ভ্রমণের জন্য নতুন বিমান কেনার খরচই পৌঁছিয়ে গিয়েছে আট হাজার কোটি টাকায়। যে বিমানে চড়ে তিনি ঘুরে বেড়াবেন এধার ওধার। না, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী অবশ্য সেই পথে হাঁটেননি দেশপ্রধানের মতো। তাঁর আছে হাওয়াই চটি। কিন্তু এতো আর সেই গুপিবাঘা’র মতো মন্ত্রপুত পাদুকাজোড়া নয়। যে, চটিতে পা গলিয়ে হাততালি দিলেই যেখানে খুশি গিয়ে পৌঁছানো যাবে। তাই তাঁর জন্যেও সম্প্রতি রাজ্য সরকার প্রায় মাসিক দুই কোটি টাকায় একটি বিমান ভাড়া নেওয়ার বন্দোবস্ত করেছে। রাজ্যের প্রধান হাওয়াই চটিতে পা গলিয়েই সেই বিমানে চড়েই চলাফেরা শুরু করবেন এইবার। বছরে সেই বাবদ চব্বিশ পঁচিশ কোটি টাকার বন্দোবস্ত হয়ে যাবে রাজ্যের রাজকোষ থেকে। অসুবিধে নাই। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে মুখ্যমন্ত্রী যদি বছরে এগারো হাজার কোটি টাকা ঢালতে পারেন রাজকোষ থেকে। তাহলে নিজের ব্যক্তিগত বিমান ভাড়ার জন্য মাত্র চব্বিশ পঁচিশ কোটি টাকা কি আর ঢালা যাবে না? অন্তত রাজ্যের লক্ষ্মীদের তাতে গোঁসা হওয়ার কথা নয়। মাত্র একটা ফর্ম পুরণ করে দিলেই যেখানে বছরে ছয় হাজার টাকা নগদ প্রাপ্তি ঘটার সম্ভাবনা!

৫ই সেপটেম্বর’ ২০২১

ঠুঁটো জগন্নাথ

লেখাপড়া শিখে কি হবে? দেশে নতুন কর্মসংস্থানের পরিসর কমতে কমতে শূন্যের দিকে ধাবমান। সরকার আর পাবলিক সেক্টরগুলির দায়িত্ব নেবে না। পাবলিক সেক্টরের বেসরকারীকরণ শুরু হয়ে গিয়েছে দ্রুত গতিতে। কর্পোরেট সংস্থাগুলির মালিকদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি বৃদ্ধি পাচ্ছে জিওমেট্রিক্যাল প্রগ্রেসনে। দেশে প্রতিবছর মিলিওনীয়র আর বিলিওনীয়রের সংখ্যা ছাপিয়ে যাচ্ছে আগের বছরের হিসেবকে। একদিকে নাগরিকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ কমছে আর অন্যদিকে মিলিওনীয়র আর বিলিওনীয়রের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে ক্রমাগত। দেশের মোট সম্পদের চোদ্দআনার মালিক মাত্র এক শতাংশ ধনকুবের। বাকি দুই আনার জন্য লড়াই করছে নিরানব্বই শতাংশ মানুষ। কোটি কোটি শিক্ষিত বেকার সাথে আরও কোটি কোটি অশিক্ষিত বেকার। তাদের অন্ন বস্ত্র বাসস্থানের জন্য সরকারের কোন দায় নাই। সংবিধানেই কেবলমাত্র দেশ সমাজতান্ত্রিক। সংবিধানের বাইরে কোথাও সমাজতন্ত্রের কোনরূপ স্বীকৃতি নাই দেশে। ধনতন্ত্রের স্বার্থেই ধনকুবেরদের প্রতিনিধিদের হাতে দেশের পরিচালন ভার। নির্বাচনে অন্য কোন বিকল্প পথ খোলা নাই। যে দলকেই নির্বাচিত করা হোক না কেন। দেশের অর্থভাণ্ডারের চাবিকাঠি থেকে যাবে সেই একই ধনকুবেরদের হাতেই। ফলে সরকার বদল হলেও অবস্থার বদল হবে না মানুষের। গোটা ভারতবর্ষ এখন কর্পোরেট পুঁজির নিয়ন্ত্রণে। দেশের পক্ষ নিয়ে দেশবাসীর পক্ষ নিয়ে সরব হওয়ার মানুষ হাতে গোনা। তাদের বক্তব্য মানুষের কাছে পৌঁছালেও প্রভাব ফেলতে পারছে না কোনভাবেই। মানুষের নজর আটকিয়ে রাখা হয়েছে মিডিয়াতন্ত্রের যাঁতাকলে। মিডিয় মানুষের হাতে যখন যে চুষিকাঠি জুগিয়ে চলেছে। মানুষ তখন সেই চুষিকাঠি চুষে চলেছে। ফলে এক সার্বিক ভাঙনের মুখে ভারতের ভবিষ্যৎ। মানুষের বেঁচে থাকাকেই একটা পণ্য করে তোলা গিয়েছে। ফলে ব্যক্তি মানুষকে কর্পোরেট স্বার্থ ইচ্ছেমতো শোষণ করতে সক্ষম হচ্ছে। মানুষ টের পেলেও তার করার কিছু নেই। সকলেরই অবস্থা আপনি বাঁচলে বাপের নাম। ফলে কর্পোরেট স্বার্থের শিকার হয়ে ব্যক্তিমানুষ এমন এক চক্রব্যূহতে আটকিয়ে পড়েছে। যেখান থেকে উদ্ধারের কোন ফর্মু আপাতত দেশবাসীর হাতে নেই। ফলে মূল প্রশ্নের উত্তরও অমীমাংসিত রয়ে যাচ্ছে। সত্যিই তো দেশের অবস্থা যদি দেশবাসীর স্বার্থই রক্ষা করতে না পারে। তাহলে লেখাপড়া শিখে আর কি হবে? বিশেষ করে শিক্ষিত জনশক্তিকেই যদি ঠুঁটো জগন্নাথ হয়ে থাকতে হয়।

৪ঠা সেপটেম্বর’ ২০২১

উঁকি দিতে হবে অন্দরমহলেই

৩৪ বছরের শাসক দল মাত্র ১০ বছরেই শূন্য হয়ে গেল। নিশ্চয় শুধুমাত্র একজন জননেত্রীর মহিমায় নয়। নিশ্চয় শুধুমাত্র বাম শাসনের ভুলত্রুটির কারণেও নয়। নির্বাচনে জয় পরাজয় থাকবে। একবার দুইবার বিরোধী আসনে বসাই বিধানসভা থেকে হাপিশ হয়ে যাওয়ার পথও নয়। কেরলেই কতবার সরকার বদল হলো। কিন্তু তাই বলে সেখানে আজকের শাসকদল কাল ভ্যানিশ হয়ে যায়নি আইনসভা থেকে। কয়েক দশকের রাজনৈতিক সংগ্রামের ভিতর দিয়েই রাজ্যে বামফ্রণ্টের ক্ষমতায় আসা। সাড়ে তিনদশক রাজ্য রাজনীতির শেষ কথা হয়েও মাত্র একবারের পরিবর্তনের ডাকেই শাসক দল থেকে দশ বছরে দলের ভোট শতাংশ সিঙ্গল ডিজিটে নেমে যায় কোন জাদুতে? বিপক্ষ রাজনৈতিক শিবিরগুলির দিকে তাকালে তো হবে না। খুঁজে দেখা দরকার নিজের ভিতরেই ঘূণ ধরেছে ঠিক কোথায়। নির্বাচনী পরাজয়ের যন্ত্রণায় বিপক্ষ রাজনৈতিক দলগুলির বিরুদ্ধে দোষারোপ করেও লাভ নাই কোন। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা ওয়াক ওভার দিয়ে নিশ্চয় জিতিয়ে দেবে না। সেরকম আশাও নিশ্চয় কোন দল করে না। তাহলে পরপর তিনটি বিধানসভা নির্বাচনে বিপক্ষ রাজনৈতিক দলগুলি কোন জাদুতে ৩৪ বছরের প্রায় সব ভোট শতাংশ কেড়ে নেয়? এখন সেই কেড়ে নেওয়ার পিছনে হয় তাদের কৃতিত্ব থাকবে। নয়তো শূন্য হয়ে যাওয়া দলের অপদার্থতা থাকবে। দুটির একটা কারণ ছাড়া বিধানসভা থেকে ভ্যানিশ হয়ে যাওয়াও সম্ভব নয়। ফলে এখনই হাই টাইম। আসল কারণের অনুসন্ধান করতে শুরু করে দেওয়া। বিপক্ষ দলেগুলির ফাঁক ফোঁকড় ভুল ত্রুটি অন্যায় অবিচার প্রভৃতির দিকে না তাকিয়ে নিজেদের সামূহিক দূর্বলতাগুলির দিকেই প্রথমে দৃষ্টি দেওয়া দরকার। না, কোন নির্বাচনে কোন রাজনৈতিক দল বা শিবিরের সাথে জোট করা হয়েছে বা হয়নি। তার জন্যেই এই ভরাডুবি। এমন সরল অংকের উপরে নির্ভর করতে থাকলে আগামীতে নির্বাচনে দাঁড় করাবার মতো উপযুক্ত প্রার্থী খুঁজে পাওয়াও শক্ত হয়ে উঠতে পারে। কার সাথে কোন জোট হয়েছে কি হয়নি। তার ভিত্তিতে কোন দল শূন্য আসনে নেমে যেতে পারে না। নির্বাচনে পরাজিত হতে পারে। কিন্তু নির্বাচনে পরাজয় এক বিষয়। আর লোকসভা বিধানসভা থেকে ভ্যানিশ হয়ে যাওয়া সম্পূর্ণ অন্য বিষয়। বিশেষ করে একটি রাজ্য সাড়ে তিনদশক ধরে শাসন করার পরে, মাত্র দশ বছরে। যে কোন রাজনৈতিক দলের একটা নির্দিষ্ট মতাদর্শ থাকার কথা। সেই মতাদর্শকে রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত করে তবেই একটি রাজনৈতিক দলের জনতার কাছে গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠার পথ খোলে। এখন যুগ পরিবর্তনের সাথে রাজনৈতিক মতাদর্শকেও যুগের উপযুক্ত ভাষায় ঠিক মতো করে প্রচার করতে না পারলে কিন্তু খুব মুশকিল। আর এই প্রচারের সাথে মানুষের অভাব অভিযোগ দুঃখ কষ্ট যন্ত্রণার শরিক হয়ে ওঠাও অত্যন্ত জরুরী। এবং মানুষের দুঃখকষ্টের সাথে রাজনৈতিক মতাদর্শকে সংযুক্ত করতে পারাটিই রাজনৈতিক প্রজ্ঞার বিষয়। সেই প্রজ্ঞা যখন নেতৃত্বের ভিতরে থাকে তখনই রাজনৈতিক লড়াই করার শক্তি অর্জিত হয়। তার আগে নয়। প্রায় আড়াই দশক সময়সীমায় ঠিক এই কাজগুলি যথাযথ ভাবে করতে পারার কারণেই ১৯৭৭ সালের বামফ্রণ্ট সরকার গঠন সম্ভব হয়েছিল। আর গত দশ বছরে ঠিক এই দুটি কাজই একেবারে ঠিকঠাক না করতে পারাই আজকের এই ভরাডুবির প্রধান কারণ। না, শুধু তো কারণ খুঁজে পেলেই হবে না। কারণের সূত্রপাত হলো কি করে। কিভাবে কোন ছিদ্র কোন দুর্বলতার পথ দিয়ে এই কারণগুলি বাস্তব হয়ে উঠল বিগত দশ বছরে। আনুসন্ধান করতে হবে তাও। না হলে অভ্যন্তরীন ঘুণের হদিশ পাওয়া যাবে না কোনভাবেই। এখন সেই অভ্যন্তরীন ঘুণের হদিশ পেতে পারে একমাত্র সেই। যার ভিতরেই বাসা বেঁধেছে সেই ঘূণ। বাইরে থেকে স্পেকুলেশন করা চলতে পারে। ডায়গোনেসিস করতে গেলে উঁকি দিতে হবে অন্দরমহলেই।

৩রা সেপটেম্বর’ ২০২১

মিশন ইমপসিবল্

সেদিনও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী এক কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রীকে ঘেরাও করে রেখেছিল। মন্ত্রীমশাইয়ের গোঁসা হয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের উপরেই। তিনি কেন্দ্র সরকারের প্রতিনিধি। প্রতিমন্ত্রী হলেও। সেই তিনি আসছেন বিশ্ববিদ্যালয়ে। অথচ উপাচার্যেরই হুঁশ নেই। কোন দায়িত্বজ্ঞান নেই। কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী পদার্পণ করবেন বিশ্ববিদ্যালয়ে আর উপাচার্যেরই দেখা নেই মন্ত্রীমশাইকে অভ্যর্থনা করে বরণ করে নেওয়ার জন্য। কেমন বিশ্ববিদ্যালয়? কেমন তার উপাচার্য? না, সেদিন অবশ্য সেই কারণে মন্ত্রীমশাইকে ঘেরাও করেনি বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা। ঘেরাও করার কারণ অন্যকিছু ছিল। কারণ যাই হোক। নাছোড় পড়ুয়াদের হাত থেকে সেই মন্ত্রীমশাইকে উদ্ধার করতে অকুস্থলে হাজির হতে হয়েছিল স্বয়ং আচার্যকেই। এবং কি আশ্চর্য ভাবে আচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের চক্রব্যুহ থেকে মন্ত্রীমশাইকে দিব্যি উদ্ধার করেছিলেন সেদিন। পড়ুয়াদের চোখে প্রায় ধুলো দিয়ে ধাঁ করে আচার্যের কনভয় মন্ত্রীমশাইকে উদ্ধার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের চত্ত্বর থেকে হাওয়া। আর তারপরেই বহিরাগত তাণ্ডব শুরু হয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয়ে। খুব বেশিদিন আগের ঘটনাও নয়। সে অন্য প্রসঙ্গ। প্রাসঙ্গিক শুধু একটা বিষয়ই। বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের হাত থেকে কাউকে ঘেরাও মুক্ত করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য ছাড়া গতি নেই। আজকে আরও এক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে উদ্ধার করতে যাওয়া মেডিক্যাল টিম যেমন ভগ্নমনোরথ হয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হলো। উদ্ধার করা গেল না বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য্যকেই। এই যদি মেডিক্যাল টিম না পাঠিয়ে স্বয়ং আচার্যই উপাচার্যের উদ্ধারে মাঠে নেমে পড়তেন। গল্পের স্ক্রিপ্ট অবশ্যই অন্যরকম হতো। কিন্তু সামান্য মেডিক্যাল টিমের সাধ্য কি ঘেরাওয়ে অংশগ্রহণ করা পড়ুয়াদের চোখ ধুলো দেওয়ার? তাই মেডিক্যাল টিমের সাথে দুজন ছাত্র প্রতিনিধি থাকার প্রস্তাবে রাজীই হতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। উপাচার্যের শারীরীক অবস্থা পাছে ছাত্ররাও জানতে পেরে যায়, সেই ঝুঁকি কি আর নেওয়া যায়? অগত্যা পড়ুয়াদের দাবি না মানায়, পড়ুয়ারাও মেডিক্যাল টিমকে ভিতরে ঢুকতে দেয়নি। ফলে মিশন কমপ্লিট না করেই ফিরে যাওয়া ছাড়া মেডিক্যাল টিমের আর করারও কিছুই ছিল না। মরাল অফ দ্য স্টোরি একটাই। কাউকে ঘেরাও মুক্ত করতে হলে আচার্যই ফিটেস্ট পার্সন ফর মিশন ইমপসিবল্।

২রা সেপটেম্বর’ ২০২১

দূয়ারে ৯১১ টাকার গ্যাস

টিভি খুলেই সুখবরটা পাওয়া গেল। এখন থেকে আর ৯০০ টাকার কমে রান্নার গ্যাস কিনতে হবে না। গ্যাসের দাম ৯০০ টাকার গণ্ডী ছাড়িয়ে গেল। এটাকে হাইজাম্প না লংজাম্প বলা যায়। সেটা যার যার তার তার অভিরুচি। তবে সবকা সাথ সবকা বিকাশের হিটলিস্টে পেট্রল ডিজেল ভোজ্যতেল রান্নার গ্যাস কেউ কারুর থেকে পিছিয়ে নেই। প্রতিটি জিনিসই ভারত মাতার আশীর্বাদে মহার্ঘ্য হয়ে উঠেছে্। যদিও মহার্ঘ্য ভাতার উপরে যাদের ভরসা রাখার মতো অবস্থা রয়েছে। তাদের কথা আলাদা। অবশ্য যতদিন সেই মহার্ঘ্য ভাতার উৎসমুখ সজীব থাকে। বাকিদের জীবনে সরকারের নামে সর্ষেফুল দেখার সুবন্দোবস্ত দিনে দিনে ক্রমেই পাকাপোক্ত হয়ে উঠছে। না আছে কোন ফাঁক। না রয়েছে কোন ফোঁকর। এখন রাজ্যসরকারের লক্ষ্মীর ভাণ্ডারকেই অনেকে খড়কুটো মনে করে ধরে থাকার চেষ্টা করলে সেই নিয়ে ট্রোল করা গেলেও। গ্যাসের দমের আঁচে সে রগর বেশিক্ষণ স্থায়ী হওয়ারও কথা নয়। রাম মন্দির তৈরী হচ্ছে। গ্যাসের দামে মানত করলে পুজো দিয়ে আসা যাবে। কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা বাতিল হয়েছে। সরকারী চাকরী চলে গেলেও চিন্তা নাই। কাশ্মীরে গিয়ে জমিয়ে ব্যবসা করা যাবে। সাথে কাশ্মীরী রমনী দর্শন থেকে প্রেম বিবাহ ঘরকন্না সবই হতে পারে। নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন ২০১৯ মহা সমারোহে পাস হয়ে গিয়েছে। আর চিন্তা নাই। সব অনুপ্রবেশকারী বাঙালিদের ধরে ধরে দেশ থেকে বার করে দিলেই ঘরে ঘরে চাকরি। সত্তর বছর ধরে সব চাকরিবাকরি আটকিয়ে রাখা এইবারে ঘুচে যাবে। শুধু জয়শ্রীরাম বলে এনআরসি’টা শুরু করে দিলেই হলো। আর দেখতে হবে না। অর্থনীতির মরা গাঙে জোয়ার এসে যাবে। তখন ৯০০ টাকা কেন সিলিণ্ডারের দাম ৯০০০ টাকা হলেও কেউ টুঁ শব্দটি করবে না। সুখবরের শুরু আছে শেষ নেই। এবারে পরপর রেল ব্যাংক জীবনবীমা ন্যাশানাল হাইওয়ে সব বিক্রী করার হাইওয়ে দিয়ে যত হাত বদল হতে থাকবে তত পার্টি ফাণ্ডে নগদ উপচিয়ে পড়তে থাকবে। ফলে একটা মিসকল দেওয়ার অপেক্ষা শুধু। পতাকার লাঠি ধরে থাকতে পারলেই হলো। নেতাদের গেরুয়ারথের আগে যে যত পা হাঁটবে তার তত কপাল খুলে যাবে। সর্ববৃহত গণতন্ত্রের সর্ব বৃহত শিবিরের আশীর্বাদ পাওয়ার অপেক্ষা শুধু। তারপরেই রামরাজত্বের সিংহদূয়ার যাবে খুলে। ৯০০ টাকার সিলিণ্ডার জ্বালিয়ে ভাত ফুটাতে তখন আর কপাল চাপড়াতে হবে না। অচ্ছে দিন কড়া নাড়ছে দূয়ারে দূয়ারে।

১লা সেপটেম্বর’ ২০২১

পাঁচশো টাকার খেল

বোঝ ঠ্যালা। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ফুটো দিয়ে লক্ষ্মী দেউলিয়া হয়ে না যায়। প্রাথমিক ভাবে ধার্য্য করা হয়েছিল এগারো হাজার কোটি টাকার বাৎসরিক বাজেট। কিন্তু যে হারে গৃহলক্ষ্মীরা মাসিক পাঁচশো টাকার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়েছেন তাতে ইতিমধ্যেই বাৎসরিক ব্যায় বরাদ্দ সতেরো হাজার কোটিতে ঠেলে না তুললে ঘরে ঘরে গৃহলক্ষ্মীরা কুপিত হবেন। অন্তত খবরে প্রকাশ তেমনটাই। দূয়ারে সরকার শিবিরগুলিতে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে নাম লেখাতে তাঁরাও ঝাঁপিয়েছেন যাঁদের দৈনিক বাজারই পাঁচশো টাকায় কুলায় না। মাসিক পাঁচশো টাকা সেই সব গৃহলক্ষ্মীদের কাছেও অমূল্য হয়ে উঠেছে যাঁদের দৈনিক হাতখরচই পাঁচশো টাকার বেশি। এখন সরকারের চোখে সর্ষেফুল। ঘরে ঘরে গৃহলক্ষ্মীদের ভোট নিশ্চিত করতে গিয়ে টান পড়তে চলেছে রাজকোষে। খবরে প্রকাশ লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে অর্থ যোগাতে কোপ পড়তে চলেছে পিডব্লুউডি’র স্টেট লেভেল ডেভালপমেন্টের ফাণ্ডে। যার ফলে রাজ্যজুড়ে সড়ক নির্মাণ প্রকল্প থেকে শুরু করে রাস্তাঘাটের মেরামতি সহ সংশ্লিষ্ট কাজকর্মে ব্যায়বরাদ্দ কমতে চলেছে। ফলে রাজ্যজুড়ে হাজার কিলোমিটার রাস্তা চওড়া করার প্রকল্পও সম্ভবত থমকে যেতে বসেছে। সরকার থেকে সংশ্লিষ্ট আধিকারীকদেরকেও নাকি জানিয়ে দেওয়া হয়েছে অর্থাভাবে নতুন আর কোন উন্নয়ন প্রকল্প সরকার হাতে নিতে পারবে না। গত দশ বছরে যা উন্নয়ন হয়েছে তারই রক্ষণাবেক্ষণটুকু করাই নাকি বর্তমানে সরকারের আশু লক্ষ্য। অর্থাৎ বার্তা পরিস্কার। দশ বছর পার করে দেওয়া গিয়েছে। আপাতত আর উন্নয়নে কাজ নাই। দশ বছরের উন্নয়নেই বাকি দশ বছর হেসে খেলে কাটিয়ে দেওয়া যাবে যদি ঘরে ঘরে গৃহলক্ষ্মীদের ঝাঁপিতে প্রতিমাসে একটা করে পাঁচশো টকার নোট ফেলে দেওয়া যায়। ঘরে ঘরে মা লক্ষ্মীরা খুশি থাকলে সরকারের আর ভাবনা কি? বুথে বুথে ভোটের লাইন নিয়েও চিন্তা নাই। খানাখন্দ ভরা রাস্তায় ভাঙা ইঁটের টুকরো দিয়ে ভরাট করে দিলেই গাড়ি এগিয়ে যাবে। রাজ্য এখন উন্নয়নের পর্ব পেড়িয়ে পাঁচশো টাকার স্কিমে ঢুকে গিয়েছে। ফলে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প এখন বার্ষিক সতেরো হাজার কোটি টাকার গণ্ডীতেই থেমে থাকবে, না ছাড়িয়ে যাবে তার উপরেই বাকি সব কিছুর হিসেব নির্ভর করছে।

৩১শে আগস্ট’ ২০২১

গুড় বাতাসার রাজনীতি

দেশের রাজনীতি জুড়ে শুধুই রাজনৈতিক দলগুলির পারস্পরিক জমি দখলের লড়াই। আর সেই লড়াইয়ে নেতা নেত্রীদের কাজিয়া। মাঝখানে পড়ে সাধারণ মানুষ। মানুষের জীবনের কোন একটি প্রধান সমস্যা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলির কোন রকম মাথাব্যাথা দেখা যায় না। যেটা দেখা যায়, সেটিকে বিশুদ্ধ বাংলায় কুমীরের কান্না বলা যায়। একই দল বিরোধী পক্ষে থাকলে এক ভাষয় কথা বলে। সরকার গঠন করলেই তার ভাষা যায় সম্পূর্ণ পাল্টিয়ে। কুমীরের চোখের জলও শুকিয়ে যায় বেমালুম। মাঝখান থেকে কিছু ভোটার কপাল চাপড়ায়। বাকিরা তক্কে তক্কে থাকে শাসক দলের সঙ্গে কোন না কোন ভাবে জুড়ে থাকলে যদি গুড় বাতাসা পাওয়া যায়। সেই লক্ষ্যেই একটা বড়ো অংশের জনতা শাসকদলগুলির সমর্থনে জড়ো হতে থাকে। ঠিক এই কারণেই পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেস আর বামফ্রন্টের ভোট শতাংশ সিঙ্গল ডিজিটে নেমে গিয়েছে। তারা কেন্দ্র বা রাজ্য কোন সরকারেই নেই। ফলে রাজনৈতিক নেতা ও নেত্রীদের মূল লক্ষ্যই থাকে যত বেশি মানুষকে গুড় বাতাসার গন্ধে দলের ভোটারে পরিণত করা যায়। না, তাই বলে দেশে কেন কর্মসংস্থান কমে যাচ্ছে। শিক্ষার উৎকর্ষতা কেন দিনকে দিন অধঃগামী হচ্ছে। ব্যাবসা বাণিজ্যের উন্নতিতেও জনগণের জীবনযাপনের মান বৃদ্ধি পাচ্ছে না কেন। মাথা পিছু আয় ক্রমাগত কেন মুদ্রাস্ফীতির চৌকাঠে মাথা ঠুকছে। দেশের আমদানী ও রপ্তানী বাণিজ্যের ভিতরে ফারাক কেন সর্বদাই ঋণাত্মক থাকে। চলমান লকডাউনে কাজ হারানো মানুষদের কর্মসংস্থানের বিষয়ে সরকারের কোন পরিকল্পনা নাই কেন। ক্রমাগত সরকারী সম্পত্তি ও সংস্থা জলের দরে বিক্রী করে দিতে থাকলে, জনগণের দুইবেলা দুইমুঠো ভাতে যখন অবধারিত ভাবে টান পড়বে, তখন মানুষ কোথায় যাবে? সরকার কেন পরের পর এক একটা জনবিরোধী আইনকানুন চালু করে চলেছে। না, রাজনৈতিক দল ও তাদের নেতানেত্রীদের এই সব বিষয়ে কোন মাথা ঘামতে হয় না। কারণ সেই বিষয়ে তাদের কোন মাথাব্যাথাই নাই। তাদের মাথাব্যাথা শুধু নিজের ভোট ধরে রাখা আর বাড়িয়ে তোলা। এবং জনগণের করের টাকায় কতটা বেশি ভাগ বসানো যায়, সারাদিন সেই বিষয়েই মাথা ঘামানো। জনতা এসব বিষয়েই ওয়াকিবহাল। জনতাও রাজনৈতিক দলগুলির কাছে সত্যকার অর্থে কিছু প্রত্যাশা করে না। জনতা জানে রাজনীতি মানেই জনগণের করের টাকা নয়ছয় করার সাংবিধানিক অধিকার প্রাপ্তি। তাই বুদ্ধিমান জনতা সেই নয়ছয়ের কুশীলবদের সাথেই চলতে চায়। সেই বুঝেই তারা ভোটের লাইনে দাঁড়ায়। না, জনতা আদৌ বেকুব নয়। এদেশের রাজনীতির ণত্ব ষত্ব জনতা হাড়ে হাড়ে টের পেয়ে গিয়েছে। তাই কোন জনবিক্ষোভ নাই। গোষ্ঠী কোন্দল শুধু।

৩০শে আগস্ট’ ২০২১